Tuesday, April 14, 2026

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেল সংকট: বন্ধ হয়ে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি

 ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেল সংকট: বন্ধ হয়ে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি



ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার **ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)**-এর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১২-১৩ এপ্রিলের মধ্যে শোধনাগারের শেষ পরিশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ট্যাংকে ব্যবহারযোগ্য ক্রুড তেল প্রায় শেষ। শুধু ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা ‘ডেডস্টক’ দিয়েও আর চালানো সম্ভব হয়নি।

 শোধনাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত এই শোধনাগারটি মূলত সৌদি আরবের **অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড** এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের **মুরবান (মারবান)** ক্রুড পরিশোধন করে। এখান থেকে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, জেট ফুয়েলসহ মোট ১২ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদিত হয়।

শোধনাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় **২ লাখ ২৫ হাজার টন**। স্বাভাবিক অবস্থায় দৈনিক সাড়ে ৪ হাজার টনেরও বেশি ক্রুড পরিশোধন করা হয়। কিন্তু সংকটের কারণে গত কয়েক সপ্তাহে উৎপাদন অনেক কমিয়ে আনা হয়েছিল।

### সংকটের কারণ

- গত মার্চ মাসে সৌদি আরব ও আমিরাত থেকে প্রায় ২ লাখ টন ক্রুড আসার কথা ছিল।

- যুদ্ধের কারণে জাহাজগুলো (যেমন: ওমেরা গ্যালাক্সি) যাত্রা বাতিল করে।

- ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শেষ চালান আসার পর থেকে ৫০ দিনেরও বেশি সময় কোনো ক্রুড আমদানি হয়নি।

সরকারি বক্তব্য ও আশ্বাস

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন:

- দেশে পর্যাপ্ত পরিশোধিত জ্বালানি (ডিজেল, পেট্রল ইত্যাদি) মজুদ রয়েছে।

- নিয়মিত আমদানিকৃত পরিশোধিত তেলের চালান আসছে (যেমন: ১৪ এপ্রিল রাতে ৬০ হাজার টন ডিজেল এবং ১৮ এপ্রিল আরও সমপরিমাণ)।

- জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, আগামী **২ মে** এক লাখ টন ক্রুডের একটি বড় চালান আসতে পারে (যদি হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হয়)।

- দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার (বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন) ৯৫% আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে মাত্র ১৫ লাখ টন ক্রুড হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আসে; বাকিটা সরাসরি পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি হয়।


তাই তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই বলে সরকার আশ্বস্ত করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের সংকট এড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন এবং বিকল্প উৎস (যেমন: রাশিয়ান ক্রুড) খোঁজার পরিকল্পনা চলছে।

 বর্তমান পরিস্থিতি

ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ হলেও দেশে পেট্রল-ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের সংকট: **ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ**


চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার **ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)**-এর উৎপাদন কার্যক্রম **১৪ এপ্রিল ২০২৬** থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সংকটের কারণে এটি বন্ধ করতে হয়েছে।

বন্ধের বিস্তারিত কারণ

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে **হরমুজ প্রণালি** দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় দুই মাস ধরে বিঘ্নিত রয়েছে। ফলে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নিয়মিত ক্রুড আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।- স্বাভাবিক অবস্থায় ইস্টার্ন রিফাইনারি দৈনিক **৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ টন** ক্রুড পরিশোধন করে।

- গত মার্চের শুরু থেকে কোনো বড় চালান আসেনি।

- মার্চের শেষে ব্যবহারযোগ্য ক্রুড মজুদ নেমে আসে **১৯,০০০ থেকে ৩০,০০০ টন**-এর নিচে।

- শেষ পর্যায়ে ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা **‘ডেডস্টক’** (অবশিষ্টাংশ) এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) থেকে আনা প্রায় **৫,০০০ টন** তেল ব্যবহার করে উৎপাদন চালিয়ে রাখা হয়।

- গত কয়েক সপ্তাহে উৎপাদন অনেক কমিয়ে (প্রায় ৩,৫০০-৩,৭০০ টন/দিন) আনা হয়। শেষ দিনগুলোতে মাত্র **১০০-১২০ টন** পেট্রল ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছিল।


**১৪ এপ্রিল** (মঙ্গলবার) দুপুর/বিকেলের দিকে শেষ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য ক্রুড প্রায় শূন্যের কোঠায়।

শোধনাগারের গঠন ও উৎপাদন ক্ষমতা

- **ধারণক্ষমতা**: প্রায় **২ লাখ ২৫ হাজার টন**।

- **প্রধান কাঁচামাল**: সৌদি আরবের **অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড** এবং আমিরাতের **মুরবান (মারবান) ক্রুড**।

- **উৎপাদিত পণ্য**: ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েলসহ মোট **১২ ধরনের** জ্বালানি।

- **ইউনিট**: ৫টি (ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট, ভিসব্রেকার, ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইত্যাদি)। বন্ধের আগে কয়েকটি ইউনিট ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়

সরকারি ও বিপিসির বক্তব্য

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন:

- উৎপাদন বন্ধ হলেও **তাৎক্ষণিক জ্বালানি সংকট** হবে না।

- দেশে পর্যাপ্ত **পরিশোধিত জ্বালানি** (ডিজেল, পেট্রল) মজুদ রয়েছে।

- **১৪ এপ্রিল রাতে** ৬০ হাজার টন ডিজেল এবং **১৮ এপ্রিল** আরও সমপরিমাণ জ্বালানি আসার কথা।

- **২ মে** নাগাদ **১ লাখ টন** ক্রুডের একটি বড় চালান আসতে পারে (যদি হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হয় বা বিকল্প পথে আসে)।

- পুনরায় উৎপাদন শুরু হতে **মে মাসের প্রথম সপ্তাহ** লাগতে পারে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার (বার্ষিক প্রায় **৭০ লাখ টন**) **৯৫%** আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে মাত্র **১৫ লাখ টন** ক্রুড হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আসে; বাকিটা সরাসরি পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি হয়।

 দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও সম্ভাব্য সমাধান

- এটি ইস্টার্ন রিফাইনারির ইতিহাসে (১৯৬৮ সাল থেকে) প্রথম অ-নির্ধারিত বন্ধ (কাঁচামালের অভাবে)।

- সরকার বিকল্প উৎস (মালয়েশিয়া, রাশিয়া ইত্যাদি) খুঁজছে।

- দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) নির্মাণের পরিকল্পনা জোরদার করা হচ্ছে।

- হরমুজ প্রণালির দীর্ঘস্থায়ী সংকট হলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং দামের ওপর চাপ পড়তে পারে।

বর্তমানে দেশে পেট্রল-ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপিসি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতার ওপর ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

সূত্র:** দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ডেইলি সান, বিডিনিউজ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন এবং সাম্প্রতিক প্রতিবেদন (১৪ এপ্রিল ২০২৬)।

সূত্র:** বিপিসি, জ্বালানি মন্ত্রণালয়, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪ এবং সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসমূহ (এপ্রিল ২০২৬)।



No comments:

Post a Comment