যুক্তরাজ্যে **সমকামী সেজে আশ্রয়** আবেদন: বাংলাদেশি-পাকিস্তানি অভিবাসীদের ভুয়া দাবির চক্র উন্মোচিত | বিবিসির অনুসন্ধান ২০২৬
লন্ডন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬**
বিবিসির গোপন অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তরাজ্যে (**UK Asylum**) থাকতে চাওয়া **বাংলাদেশি** ও **পাকিস্তানি** অভিবাসীরা **সমকামী (gay/lesbian) সেজে** ভুয়া আশ্রয় আবেদন করছেন। কিছু আইনজীবী ও ইমিগ্রেশন উপদেষ্টা এতে সহায়তা করে **হাজার হাজার পাউন্ড** (লাখ লাখ টাকা) ফি আদায় করছেন।
যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থা সত্যিকারের নির্যাতিতদের সুরক্ষা দেয়। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সমকামিতা অবৈধ হওয়ায় এই যুক্তিতে আশ্রয় দাবি করা যায়। কিন্তু বিবিসির তদন্ত দেখিয়েছে, এই ব্যবস্থার **ব্যাপক অপব্যবহার** চলছে — যাকে বলা হচ্ছে **Fake Gay Asylum Claims UK**।
কেন বাড়ছে এই প্রতারণা? (UK Gay Asylum Scam)
ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া **শিক্ষার্থী**, কর্মজীবী ও পর্যটক ভিসাধারীরা দেশে ফিরতে না চেয়ে এই পথ বেছে নিচ্ছেন। তারা ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে আসা অভিবাসী নন।
২০২৪-২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে (প্রায় ১ লাখের বেশি)।যৌন পরিচয় (Sexual Orientation) ভিত্তিক আশ্রয় আবেদনের মধ্যে **পাকিস্তানি নাগরিকরা ৪২%** (২০২৩ সালে ৫৭৮টি)। অথচ সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনে তাদের অংশ মাত্র **৬%**।বাংলাদেশিদেরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন রয়েছে। ২০২৫ সালে পাকিস্তান (১১%) ও বাংলাদেশ (৬%) আশ্রয়প্রার্থীদের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিবিসির অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে
বিবিসির আন্ডারকভার প্রতিবেদকরা পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেজে যোগাযোগ করেন। ফলাফল:
এক আইন সংস্থা **৭,০০০ পাউন্ড** (প্রায় ১০ লাখ টাকা) ফি চেয়েছে। দাবি: প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা “খুবই কম”।**ভুয়া গল্প তৈরি**, সমর্থনপত্র, ছবি, ক্লাবের টিকিট, চিকিৎসা প্রতিবেদন (বিষণ্নতা বা এইচআইভি সাজিয়ে) জোগাড়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এক উপদেষ্টা দাবি করেন, **১৭ বছর ধরে** ভুয়া দাবি তৈরি করছেন। প্রয়োজনে “সমকামী যৌন সম্পর্কের” সাজানো সাক্ষীও জোগাড় করে দিতে পারেন।
- আশ্রয় পেলে স্ত্রীকে দেশ থেকে আনা যাবে এবং পরে তাকেও **লেসবিয়ান সাজিয়ে** আবেদন করা যাবে — এমন পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
Worcester LGBT গ্রুপের বিতর্ক
পূর্ব লন্ডনের বেকটনের এক অনুষ্ঠানে ১৭৫ জনের বেশি লোক জড়ো হয়। গ্রুপটি নিজেদের “প্রকৃত সমকামী আশ্রয়প্রার্থীদের” সহায়তা সংগঠন বলে দাবি করে। কিন্তু অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেন:“এখানে কেউই সমকামী নয়। এক শতাংশও না। ০.০১ শতাংশও না।”
তানিসা খান
(উরচেস্টার এলজিবিটির উপদেষ্টা) প্রতিবেদককে নিজের বাড়ির শোবার ঘরে **২,৫০০ পাউন্ড** ফি-তে “পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ” (ছবি + চিঠি + প্রমাণ) তৈরির প্রস্তাব দেন। তিনি **ল অ্যান্ড জাস্টিস সলিসিটরস**-এর প্যারালিগ্যাল **মাজেদুল হাসান শাকিল**-এর সঙ্গে যুক্ত।আরেক উপদেষ্টা **আকিল আব্বাসি**ও **৭,০০০ পাউন্ড** ফি চেয়ে সমকামী ক্লাবে যাওয়া ও ছবি তোলার পরামর্শ দেন।
বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া
আনা গনজালেজ(ইমিগ্রেশন আইনজীবী): “এরা প্রতারণা করছেন। সত্যিকারের নির্যাতিত এলজিবিটি শরণার্থীদের জন্য কঠিন করে তুলছেন। সমকামিতা যাচাইয়ের কোনো পরীক্ষা নেই — শুধু গল্পের ওপর নির্ভর করে।” **জো হোয়াইট** (লেবার এমপি): পুলিশ তদন্ত ও কড়া ব্যবস্থার আহ্বান।
- **ক্রিস ফিলিপ** (কনজারভেটিভ): “পুরো আশ্রয় ব্যবস্থা পচে গেছে। শুধু প্রকৃত নির্যাতিতরা আশ্রয় পাবেন।”
হোম অফিসের অবস্থান
যুক্তরাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর (UK Home Office) বলেছে:প্রতারণামূলক আশ্রয় আবেদন** ফৌজদারি অপরাধ। দোষী প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড ও দেশ থেকে বহিষ্কার হতে পারে।সাম্প্রতিক সংস্কার: আশ্রয়প্রার্থীদের এখন **অস্থায়ী সুরক্ষা** দেওয়া হবে, প্রতি **৩০ মাসে** পর্যালোচনা করা হবে।তানিসা খান ও শাকিল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
কেন এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ?
এই **ভুয়া আশ্রয় দাবি** প্রকৃত এলজিবিটি শরণার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। রিফিউজি কাউন্সিল বলেছে, অসাধু উপদেষ্টাদের শোষণ নিন্দনীয় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
যুক্তরাজ্যে সমকামী সেজে আশ্রয় আবেদন,
বাংলাদেশি পাকিস্তানি ভুয়া gay asylum claim,
Worcester LGBT asylum scandal,
.jpeg)
No comments:
Post a Comment